সাহসী সংবাদ 24
লোড হচ্ছে...

হরমুজ প্রণালী পুনরারম্ভে চীনের আহ্বান: বেইজিংয়ে ইরান-চীন কূটনৈতিক বৈঠক

 

বেইজিং – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী 'যত দ্রুত সম্ভব' খুলে দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে চীন। বুধবার বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই গুরুত্বারোপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই আরাগচির প্রথম চীন সফর। বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, এই মুহূর্তে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনই চীনের কাছে 'সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার'। তিনি আরও যোগ করেন যে, বেইজিং যেকোনো উপায়ে উত্তেজনা হ্রাসে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ তেল পরিবহন করা হয়, কিন্তু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে এই পথটি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। চীনের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ—দৈনিক প্রায় ১৩.৮ লক্ষ ব্যারেল—ইরান থেকে আসে, যা এই পথের ওপর নির্ভরশীল।

ওয়াং ই বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। চীন আশা করে যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিশ্ববাসীর এই আহ্বানে দ্রুত সাড়া দেবে।"

কূটনৈতিক সমীকরণ ও আসন্ন শীর্ষ বৈঠক

চীন এবং ইরান উভয় পক্ষই গত এপ্রিলে পাকিস্তান-মধ্যস্থতাধীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বেইজিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। তবে বৈঠকে ওয়াং ই ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধের সমালোচনা করে একে 'বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে মন্তব্য করেছেন।

আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর হতে যাওয়া এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়টি প্রধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে আরাগচি জানান যে, চীনের সঙ্গে ইরানের কৌশলগত সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে। বেইজিংয়ের এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ সচল রাখতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ভিডিও গ্যালারি